বই লেখা কাকে বলে?

সাত্যি বলছি, ব্যাপারটা বেশ mysterious। বই, কবিতা ইত্যাদি লেখা। experiment করা। আমি একবার এক লেখিকার বক্তব্য শুনেছিলাম এই বিষয়ে। গ্রীক জাতিরা তাদের muse বা অনুপ্রেরণা কে বহির্জাগতিক মনে করত। যেমন একটি উৎসবে অনেকজন একসাথে নাচ-গান করছে। কিন্তু তাদের মধ্যেই একজন আস্তে আস্তে আরেকটি শক্তির ডাকে সাড়া দিয়েছে। তাঁর রূপ বদলে যাচ্ছে। ছখে আগুন, পায়ে রক্ত। এইটাই হলঅনুপ্রেরণা। এর উৎস আমাদের মধ্যে নেই। আমরা ডাকলেই যে সে সাড়া দেবে তার কোন মানে নেই। বরঞ্চ আমরাই তার বশীভুত। সে যখন খুশি আসবে, নিজের সুবিধে অনুযায়ী আমাদের বাধ্য করবে আঁকতে, লিখতে, গাইতে। আবার যখন ইচ্ছে চলে যাবে। বেশ গল্মেলে, তাই না?

– আমি শ্রীমান্তি

Advertisements

অশ্লীল কবিতা

বেশ কিছু ব্যাপার আমার কাছে বেশ অস্পষ্টো। যেমন ‘ভালো’ আর ‘মন্দ’ এর ভিতরে সহজেই তফাত বুঝে ফেলা। আমি এই ২৫ বছরেও বুঝতে পারলাম না, ‘বাংলা’ নিয়ে পড়া বা ‘বাংলা’ র দিকে ঝোঁক থাকা কেন ‘মন্দ’ এবং, ইংরিজি তে ক্রিত্রিম ও কশ্কর উচ্ছারন করে কথা বলা কেন এত প্রসনশনিয়।

ঠিক তেমনি, ‘শ্লীল’ ও ‘অশ্লীল’ এর ব্যাবধান টাও আমার কাছে ধোয়াটে। পারথিব জগতের রহস্য উন্মোচন করে কি করে কোটীতে কোটীতে মানুষ, ঘৃণিত ব্যাক্তি/গষ্ঠী অথবা ধরুন, সাহিত্য চিনহিত করে ফ্যালে, এটা বোঝার বুদ্ধি বা প্রব্রিত্তি দুতই বোধহোয়ে হারিয়েছি।

বিবেকটা দুরভাগ্যবশত টনটনে আছে। তাই এত কথা লেখা ! সাল্মান রুশদি কে জয়পুর সাহিত্য উতসবে ‘সাতানিক ভারসেস’ পড়তে দেওয়া হল না। জাতির প্রতি মরিয়া হোয়ে ওঠা সংখ্যাগরিষ্ঠের দল, লেখক কে ভিডিও তেও পুস্তক থেকে অংশ বিশেষ পড়তে দিলেন না। আমার সাথে এই দলের ক্রুদ্ধ, লাঞ্ছিত কন সদস্যের দেখা হলে বলতুম, “ভাই, বইটাকি সাত্যি তুমি পড়ে দেখেছ? নাকি সকাল বেলা আব্বাজানের ডাক পেয়ে, কোন সম্পুণ৴ অসাম্প্রাদায়িক (খুব সম্ভবত রাজনৈতিক ও ঈষা৴ জনিত) কারণে উঠে চলে এসেছ?”

আমার পিতাসম এক ভদ্রলকের সাথে আমার ভারচুয়াল জগতে দেখা ও কথা-বারতা হওয়ার সউভাগ্য ঘটেছে। ভদ্রলকের নাম, শ্রীযুক্ত মলয় রায়চৌধুরী। পরিচয়ে বিক্ষ্যাত কবি ও বাংলার ৬০ এর দশকের Hungryalist Movement শীর্ষ প্রবর্তক। রাতের খাওয়া-দাওয়া হয়ে গিয়ে থাকলে, এনার জগদবিক্ষ্যাত কবিতা ‘প্রচণ্ড বইদ্যুতিক ছুতোর’ পড়ে দেখতে পারেন। পড়ে খুব সম্ভবত এই ব্লগ এ ফিরে আসবেন না।

আমি কি এই সাঙ্ঘাতিক অশ্লীল ভাষা কে সমথ৴ন করার চেষ্টা করছি? না !
আমি কি বলতে চাইছি যে কবি হওয়ার সুবাদে, মলয় রায়চৌধুরী, যা ইচ্ছে তাই লিখতে পারেন? একদমি না!
আমি কি বলছি যে সুন্দর, বা নান্দনিয় ভাষা প্রয়োগ করে ভালো কবিতা লেখা যায় না? না!

আমার বক্তব্য খুবি সহজ। শ্লীলতা-অশ্লীলতা বিচার করার ক্ষমতা কি আমরা সাত্যি অজ৴ন করেছি? মানছি আপনি পাঠক। আমার লেখা আপনার পছন্দ না হলে আমার পেটে ভাত জুটবে না। কিন্তু তাই বলে কি সীমিত মনষ্কতাকে আমি সমরথন জানাবো? এইবারেও কিন্তু আমার উত্তর নাই হবে। সাল্মান রুশদি হন, বা মলায় বাবু, শুধুমাত্র, আপনার সৃষ্টি করা সীমিত মাপকাঠিতে বোধহয়ে সব শিল্পী কে ফেলা উচিত নয়।

ভালো করে দেখুন তো, আপনার চারপাশে সাত্যিই কি শ্লীলতার উদাহরণ থিক থিক করছে? অন্যের দিকে আঙ্গুল তোলার সময়, নিজের যুবতি মেয়ের স্কার্ট টা কি একটু বেশিই ছোট মনে হচ্ছে?

ধৃষ্টতা মাপ করবেন। আমি মানুষটাই এইরকম।
আমি শ্রীমন্তি

আমি শ্রীমন্তি

আমি আমার আমিত্ত্যতে ভীষণ ক্লান্ত,

ক্লান্তি আজ আর জানান দিয়ে আসে না

গুমোট বৃষ্টির মত বাষ্প হয়ে

অনেক দিনের বন্ধ খিরকিতে

ফেটে পড়ে মুগ্ধ চীৎকারে।

কথাও এই ‘আমি’ ঠাই পাই না

কবিতার পাতা, বারিস্তার কফী

প্রেমিকের আলিঙ্গন

শত্রুর প্রতিশোধ, কথাও না।

না, না, কথাও না !

সবাই কেমন মিলিয়ে যয়ে

ওই যে কোথায়ে

আমি আর আমার আমিত্ত্য

বসে আনমনে উল বুনি,

আগামি ক্লান্তিকর প্রজন্মর জন্য

এই যাহ্‌, ভুলেই যাচ্ছিলাম প্রায়ে

আমিই শ্রীমন্তি।